নিয়াজ মোরশেদ : জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম স্বাধীনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর একটি প্রতারক চক্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম স্বাধীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিনসহ অন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা চায় প্রতারক চক্র।
প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিন অভিযোগ করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অপরিচিত একটি নম্বর থেকে পুলিশ পরিচয়ে ফোন করা হয়। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জয়পুরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পরিচয়ে আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে বলেন, ‘‘আব্দুর রহিম স্বাধীন গ্রেপ্তারের পর তথ্য দিয়েছে, আপনিও আওয়ামী লীগ করেন। সেই সূত্র ধরে আপনার বিরুদ্ধে থানায় মামলা ফাইল হচ্ছে। মামলা থেকে বাঁচতে হলে এখনই প্রেরিত বিকাশ নম্বরে ৭০ হাজার টাকা পাঠান। এ টাকা না পাঠালে এক্ষুনি আপনাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
এ সময় তাঁরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এরপর থেকে অনর্গল ফোন করতে থাকেন। তাঁরা কখনো আমাকে থানায় আসতে বলেন, আবার থানার পাশে চায়ের স্টলে আসতে বলেন। আমি ফোনটি আমার পরিচিত একজনকে দিলে তাঁরা তাকে ক্রসফায়ার দেওয়ার হুমকি দেন। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদেরও একইভাবে আক্কেলপুর থানার ওসি পরিচয় দিয়ে মামলার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করেন। ঘটনাটি আক্কেলপুর থানার ওসিকে জানানো হয়েছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয় থেকে আওয়ামী লীগ নেতা স্বাধীন মাস্টার গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকসহ আমাদের বেশ কয়েকজনকে ফোন করে মোটা অঙ্কের চাঁদা চাওয়া হয়। আবার বলা হয়, চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি কোথাও জানালে তাঁরা প্রকাশ্যে আমাদের মেরে ফেলবেন। সঞ্জয় কুমার নামে এক সহকারী শিক্ষক বলেন, একই নম্বর থেকে আক্কেলপুর থানার ওসি পরিচয় দিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ঘটনাটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছি, তিনি আবার ওই নম্বরসহ আক্কেলপুর থানা-পুলিশকে জানিয়েছেন।অপরদিকে অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের কাছে গত তিন দিন আগে একটি গোয়েন্দা সংস্থার লোক পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে তাঁর কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁকে চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখানো হয়। তবে তিনি ওই নম্বরে কথা বলা ব্যক্তিকে কোনো টাকা দেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জয়পুরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুল কাদের বলেন, ‘আমার মোবাইল ফোন থেকে টাকা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র এগুলো অপকর্ম করছে। পুলিশ তৎপর রয়েছে।’ পুলিশ পরিচয়ে কেউ ফোন করে টাকা দাবি করলে তাদের টাকা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেন তিনি।
আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ। গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শিক্ষকদের কাছে মোবাইল ফোনে টাকা চাওয়ার ঘটনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা শিক্ষকদের সতর্ক থাকতে বলেছি। ফোন নম্বরটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে ওসি জানিয়েছেন।
সত্যেরপথে.কম/এবি
আপনার মতামত লিখুন :