ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে পৃথক দুটি স্থান থেকে এক গৃহবধূ ও এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ক্ষেতলাল পৌর এলাকার ভাসিলা মহল্লা এবং উপজেলার মহব্বতপুর নাগরপাড়া গ্রাম থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন, পৌর এলাকার ভাসিলা গ্রামের সাদিকুল ইসলামের স্ত্রী মনিকা (১৮) এবং মহব্বতপুর নাগরপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ট্রলিচালক মাসুদ (৩২)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ভাসিলা মহল্লায় নিজ শয়নকক্ষ থেকে গৃহবধূ মনিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের বাবা কালাই উপজেলার শাইলগুন গ্রামের মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই জামাই সাদিকুল ইসলাম ও তার মা যৌতুক হিসেবে একটি ‘সুজুকি জিকজার আর ওয়ান-৫’ মোটরসাইকেল দাবি করে আসছিলেন। দাবি পূরণ করতে না পারায় তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। নিহতের খালা আলিফা বেগম জানান, মরদেহের মাথা ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গৃহবধূর স্বামী সাদিকুল ইসলাম বলেন, সকালে মনিকা পরোটা খেতে চাইলে তিনি বাজার থেকে এনে দেন এবং পরে বাইরে যান। ফিরে এসে জানতে পারেন, ঘরের ভেতরে আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছেন মনিকা। তাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক বিরোধ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, উপজেলার মহব্বতপুর নাগরপাড়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে মাসুদ নামে এক যুবক বাড়ির অদূরে বাঁশঝাড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা। জানা গেছে, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন মাসুদ। পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রবাসে যাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়।
এর জের ধরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোত্তাদুল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে। উভয় ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। আবু হাসান উপজেলা প্রতিনিধি, ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।
সত্যেরপথে.কম/এবি
আপনার মতামত লিখুন :